
জল-স্থলের সাতটি অদ্ভুত প্রাণী!!
মোঃ সাইফুল ইসলাম
মহাবিশ্বের রহস্যের অন্তরালে বিরাজমান রয়েছে হাজারো অদ্ভুত ও মজাদার প্রাণী। কতরকম যে রুপ তাদের! কতরকম বৈচিত্র্যময় তাদের স্বভাব!! এদেরকে নিয়ে লিখলে দুই এক পাতায় কখনোই শেষ হবে না। এরা হতে পারে ভয়ংকর! আবার হতে পারে সৌন্দর্যের অপরুপ নিদর্শন। আজ তেমনই কিছু বৈচিত্রময় প্রাণীদের নিয়ে আমাদের এই আয়োজন।
ডাম্বো অক্টোপাস: ডাম্বো অক্টোপাস সকল জীবন্ত অক্টোপাস প্রজাতির মধ্যে সমুদ্রের সবথেকে গভীরে বসবাসকারী একটি প্রজাতি। খাবারের জন্য এটি সমুদ্রের তলদেশের প্রায় ১০০০০ থেকে ১১০০০ ফুট নিচে বসবাস করে। মূলত কানের মত দুটি পাখনা বা ডানা থাকায় একে ডাম্বো বলা হয়ে থাকে।
রেড লিপ ব্যাটফিস: দেখতে অনেকটা বাদুড়ে মত। সাথে আছে লাল রঙের ঠোঁট! এদের আবাস্থল মূলত গ্যালাপাগোস দ্বীপে। এরা সমুদ্রের তলদেশে তাদের পাখনা দিয়ে হেটে বেড়াতে পারে।
পাচু ফিস: এটি দক্ষিণ আমেরিকায় পিরানহার সমগোত্রীয় একধরণের প্রাণী। একে স্থানীয় একজন জেলে ‘বল কাটার’ তথা ‘অণ্ডকোষ খাদক’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। যিনি সাঁতার কাটার সময় এই মাছের মানুষের মত হাসি দেখে ভয় পেয়েছিলেন। এই প্রাণিটির মানুষের দাঁতের মত দাঁত আছে।
চাইনিজ ওয়াটার ডিয়ার: এটি একটি হরিণ যা চীনের জিয়াংসু প্রদেশের ইয়াংজি নদীর তীরে পাওয়া যায়। লম্বা লম্বা ছেদন দাঁত থাকার কারণে একে ভ্যাম্পায়ার ডিয়ারও বলা হয়। এরা এই দাঁত মূলত নিজস্ব এলাকা দখলের সময় সংগঠিত সংঘর্ষে ব্যবহার করে থাকে।
অ্যানকোল ওয়াটুসি: অ্যানকোল ওয়াটুসি আফ্রিকান গরুর একটি বংশধর। এটি লম্বা শিং এর অধিকারী। তবে যেনতেন শিং নয়! শিংটি প্রায় ৮ ফুট লম্বা এবং প্রায় ৪৫ কেজি ওজনের হয়ে থাকে।
গবি জারবোয়া: গবি জারবোয়া সাধারণত চীন ও মঙ্গোলিয়ায় প্রাপ্ত গর্তবাসী প্রজাতির একধরণের প্রাণী। এদের পিছনের পা ক্যাঙ্গারুর পায়ের মত লম্বা, যা দিয়ে সে লাফিয়ে চলে। এছাড়া শ্রবণ ও দেহের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বড় কান ও লেজ রয়েছে। এটি দেখতে সত্যিই উদ্ভট লাগে।
বিয়ার্ড ভালচার: বিয়ার্ড ভালচার তথা দাঁড়িওয়ালা শকুন সাধারণত হিমালয় পর্বতমালায় পাওয়া যায়। তবে এটি এশিয়া ও ইউরোপের অন্যান্য পর্বতেও বাস করে। এই শকুনগুলো এখন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কারণ পাহাড়ি এলাকার অনেক মানুষ মনে করে এরা ভেড়া শাবক এবং মানুষের বাচ্চাদের আক্রমণ করবে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ডের (WWF) মতে বর্তমানে মাত্র ১০০০০ টি বিয়ার্ড শকুন বেঁচে আছে।
লেখক: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু)