
উত্তরের মিসিসিপি
উত্তর আমেরিকার ড্রেনেজ সিস্টেম ব্যবস্থাপনার প্রধান নদী মিসিসিপি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই নদীটি প্রবাহিত হয়েছে। এর ড্রেনেজ সিস্টেম এতটাই দীর্ঘ যে, তা কানাডা পর্যন্ত বিস্তৃত। ড্রেনের দীর্ঘ ব্যাপকতায় আমেরিকার ৩১টি রাজ্য এবং কানাডার দুটি রাজ্য যার মধ্যে রয়েছে রকি এবং আপ্পালাচেইন পর্বতমালা। মিসিসিপি নদীটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদীগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে। আর বিস্তৃতির দিক দিয়ে দশম স্থানে। নদীটি মার্কিন মুলুকের মিনেসোটা, উইসকনসিন, লোওয়া, ইলিনেহিচ, মিসৌরি, কেনটাকি, টেনেসে, আরকানসাস, মিসিসিপি এবং লুইজিয়ানার মতো উল্লেখযোগ্য রাজ্য দিয়ে কিংবা অভ্যন্তরে প্রবাহিত হয়েছে।
নদীটির তীর ঘেঁষে বসতি আছে আদিবাসী মার্কিনিদের। বসবাসরত আদিবাসী মার্কিনিদের অধিকাংশের পেশা শিকার করা বা কৃষিকাজ। তবে ১৫০০ সালে নদীটির তীরে ইউরোপিয়ানদের অনুপ্রবেশ ঘটলে আদিবাসী মার্কিনিদের জীবনযাত্রার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। নদীটি নিউ স্পেন, নিউ ফ্রান্স এবং আমেরিকা আবিষ্কারের প্রথম দিকে নদীপথে যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উনিশ শতকে পশ্চিম দিকে আমেরিকার বিস্তৃতিতে মিসিসিপি এবং মিসৌরির মতো নদীগুলো যোগাযোগের ক্ষেত্রে ছিল খুবই কার্যকর। মিসিসিপি নদীর উপত্যকাকে ফসল উৎপাদনের জন্য পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম উর্বর ভূমি বলে মনে করা হয়। আমেরিকান গৃহযুদ্ধের সময় নদীটি ইউনিয়ন নামক শক্তির হাতে চলে যায়। কারণ হিসেবে ছিল বাণিজ্য এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে নদীটির উপযুক্ততা। উনিশ শতকের দিকে নদীটির তীরে একদিকে যেমন শহর প্রতিষ্ঠা হয়, ঠিক তেমনি কল-কারখানাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে ওঠে।
আর বর্তমান সময়ে উন্নতির জোয়ারে নদীটির তীরে চাষাবাদ আর জনসংখ্যা এতটাই বেড়ে গেছে যে, তা এখন পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে। বর্তমান সময়ে প্রতিনিয়তই নদীর তীরে গড়ে উঠছে নিত্যনতুন শিল্প-কলকারখানা, বসবাসের জন্য আবাসন।
সূত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন (০৫/০৫/২০১৩)