
লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে 'ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফী এন্ড হারপেটোফনা রিসার্চ' শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
অনিমেষ অয়ন, শ্রীমঙ্গল থেকে
বাংলাদেশ পাইথন প্রজেক্টের আয়োজনে ১৮ ও ১৯ জুন মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দুইদিনব্যাপী ‘ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফী এন্ড হারপেটোফনা রিসার্চ’ শীর্ষক এক কর্মশালা। কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থী। কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি বিষয়ক সংগঠন ‘গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটি’র সদস্য।
কর্মশালাটি মূলত ৩টি সেশনে ভাগ করা হয়। ১৮ জুন প্রথম সেশন নেওয়া হয়, ‘ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি’ বা ‘বন্যপ্রানি বিষয়ক আলোকচিত্র’র উপর। এই সেশনে আমেরিকার বন্যপ্রানি গবেষক ও আলোকচিত্রী স্কট ট্রেগসার ও অ্যাশ উইস্কোভিচ গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটি’র সদস্যদের বন্যপ্রানির ছবি তোলার ক্ষেত্রে কী কী ধরনের নিয়ম এবং সতর্কতা মেনে চলতে হয় সেই সম্পর্কে আলোচনা করেন। এরপরেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে লাউয়াছড়ার গহীন বনে নিয়ে স্কট ট্রেগসারের তত্ত্বাবধানে হাতে কলমে বন্যপ্রানির ছবি তোলার কলাকৌশল দেখিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও এসময় শিক্ষার্থীদের সাপ ধরার বিভিন্ন কৌশল দেখানো হয়।
বড় আকারে দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন — ছবি কৃতজ্ঞতা অনিমেষ অয়ন
বিকেলে শিক্ষার্থীদের সাথে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত ৮ জন বন্যপ্রানি গবেষক ও আলোকচিত্রীদের মধ্যে এক মতবিনিময়সভা’র আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, ‘কারিনাম’ নামক একটি সংস্থা ও বাংলাদেশ বন বিভাগের সহযোগীতায় ‘বাংলাদেশ পাইথন প্রজেক্ট’ ২০১১ সাল থেকে লাউয়াছড়ার সরীসৃপ প্রানির উপর গবেষনা করে আসছে। গত বছর তিনটি অজগরে এবং এই বছরের ১৩ জুন তিনটি কচ্ছপে ট্রান্সমিটার বসিয়ে এইসব প্রানিদের উপর গবেষনা কার্যক্রম চলছে। এই গবেষনা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে আমেরিকা থেকে ৫ জন বন্যপ্রানি গবেষক ও ১ জন পরিবেশ বিজ্ঞানী এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ২ জন বন্যপ্রানি গবেষক আসেন। মতবিনিময় সভায় বন্যপ্রানি গবেষকবৃন্দ তাদের অভিজ্ঞতা গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটি’র সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন এবং একইসাথে গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটি’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশে প্রকৃতি সংরক্ষনের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজন করা হয় ‘অজগর ও কচ্ছপ গবেষনা’ শীর্ষক কর্মশালার। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ‘বাংলাদেশ পাইথন প্রজেক্ট’র প্রধান গবেষক শাহরিয়ার সিজার রহমান। এ সময় তিনি গবেষনা কাজের বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এরপরে ১৮ জুন রাত ও ১৯ জুন সকালে শিক্ষার্থীদের লাউয়াছড়া বনের বিভিন্ন অংশে অবস্থারত ট্রান্সমিটার বসানো অজগর ও কচ্ছপ কিভাবে রেডিও ট্রাকিং করা হয় সেটা দেখানো হয়।
এ কর্মশালার ব্যাপারে ‘বাংলাদেশ পাইথন প্রজেক্ট’ প্রজেক্টের প্রধান গবেষক শাহরিয়ার সিজার বলেন, ‘ মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা এবং তাদের মাধ্যমে অন্যদের মাঝে সাপ-কচ্ছপ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াই হল আমাদের উদ্দেশ্য’।
কর্মশালার অন্যতম ট্রেইনার স্কট ট্রেগসার বলেন, ‘আমি অনেক আনন্দিত যে বাংলাদেশের কিছু তরুন শিক্ষার্থীদের নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পেরে’। এ সময় তিনি গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটির সদস্যদের সাথে আগামীতেও কাজ করার আশা ব্যক্ত করেন।
কর্মশালার অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ ছিল গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটি’র সদস্যদের সাপ ধরা শিখানো। উল্লেখ্য অংশগ্রহণকারীদের কেউ এর আগে প্রকৃতিতে সাপ ধরার অভিজ্ঞতা হয়নি। এই কর্মশালার মাধ্যমে এবারই প্রথম সাপ ধরার অভিজ্ঞতা হল সবার।